অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ

অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ। চলতি বছরে রেলপথটির নির্মাণ কাজের শুরুর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রেল মন্ত্রণালয়ে বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলার এমপি, জেলা প্রশাসক, উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ কাজের অগ্রগতি হিসেবে ৭টি রেলওয়ে স্টেশন একটি জংশন নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। তার সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের এমপি হাবিবে মিল্লাত মুন্না, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের এমপি ডা. আজিজুর রহমান, বগুড়া-৬ (সদর) আসনের এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের এমপি মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৭ আসনের এমপি রেজাউল করিম বাবলু, রেলওয়ের সচীব ড. হুমায়ুন কবির, বগুড়া জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক, সিরাগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মদ, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মজিবর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান সফিক, কাহালু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আল হাসবিুল হাসান সুরুজ, শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ছান্নু। এছাড়া ওই সভায় সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, রেল বিভাগের প্রকৌশলী ও প্রকল্পের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা থেকে বলা হয়, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ বাস্তবায়নে ৭টি রেলওয়ে স্টেশন নির্ধারণ করা হয়েছে। বগুড়ার রানীর হাট, শাজাহানপুর, আড়িয়া বাজার, শেরপুর, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ, চান্দাইকোনা, কৃষাণদিয়া। একই সঙ্গে একটি রেলওয়ে জংশন নির্মাণ করা হবে সিরাজগঞ্জে। চলতি রমজান মাসেই রেলপথ যাচাইয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে উত্তরের বিভিন্ন জেলার সাথে প্রায় ৭২ কিলোমিটার পথ কমে আসবে। সময়ের সাথে আর্থিকভাবে লাভবান হবে উত্তরের মানুষগুলো।
জানা যায়, বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। এই দুই জেলার মধ্যে সরাসরি রেল পথ না থাকায় উত্তরাঞ্চলের ট্রেনগুলোকে যাত্রী ও কৃষিপণ্য নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বর্তমানে বগুড়ার সান্তাহার জংশন হয়ে, নাটোর, পাবনা, ঈশ্বরদী, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া হয়ে যমুনা নদীর উপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতুতে পৌঁছাতে হয়। শুধুমাত্র বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে তিনটি জেলার পথ ঘুরে বঙ্গবন্ধু সেতুতে পৌঁছাতে সময় লেগে যায় প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। আর প্রায় ৪০৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৯ ঘণ্টা। আর সড়ক পথে ২০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বাসে করে ঢাকা যেতে সময় লাগে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। অথচ বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতুতে সরাসরি ট্রেনযোগে পৌঁছাতে সময়ে লাগবে প্রায় ১ ঘণ্টা থেকে সোয়া ঘণ্টা। বাসে করে ঢাকায় যেতে ২০০ কিলোমিটার ও ট্রেনে করে পাড়ি দিতে হয় ৪০৫ কিলোমিটার।
বগুড়া থেকে সরাসরি বঙ্গবন্ধু সেতুতে ট্রেন সার্ভিস চালু হলে বগুড়াসহ উত্তরের জেলার ট্রেন যাত্রীদের প্রায় ২০০ কিলোমিটার পথ কমে আসবে। সেই সঙ্গে খরচ কমে গিয়ে উত্তরের ট্রেন যাত্রীদের আর্থিকভাবে সাশ্রয় হবে। এছাড়া সড়ক পথ হয়ে বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ, গাইবান্ধা, রংপুর, নীলফামারি, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট কুড়িগ্রাম জেলার ঢাকাগামীরা যাতায়াত করে। এ কারণে সড়ক ও রেলপথে সব সময় যানজট লেগেই থাকে। যানজটের কারণে ঢাকা পৌঁছাতে হয় নানা দুর্ভোগ নিয়ে। এই দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেতে বগুড়া ও সিরাজগঞ্জসহ উত্তরের বাসিন্দারা রেলপথ নির্মাণের দাবি তোলেন। এই পথটি নির্মাণ হলে উত্তরের ১০ জেলায় আর্থিকগতি আরও বৃদ্ধি পাবে। পথ কমে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতুর এম মনসুর আলী স্টেশন পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটারে দাঁড়াবে। প্রকল্পের জন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা।
সর্বশেষ রেলওয়ে বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ৯ এপ্রিল সিরাজগঞ্জে এবং ২০১৫ সালে বগুড়ায় দলীয় এক জনসভায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ রেলপথ উপহার দেওয়ার ঘোষণা করেন। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন প্রকল্পের জন্য পরামর্শক নিয়োগ এর প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রক্রিয়ার পর প্রকল্পটি আরো একধাপ এগিয়ে যাবে।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টারের কার্যালয় থেকে জানা যায়, বর্তমানে বগুড়া থেকে রেলযাত্রীরা নওগাঁ সীমানা হয়ে নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ হয়ে ঢাকা যাচ্ছে। আর বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ নতুন রেলপথ নির্মাণ হলে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ হয়ে ঢাকায় পৌঁছে যেতে পারবে আগের থেকে কম সময়ে ও কম খরচে। এতে করে যাত্রী সংখ্যাও বাড়বে আগের থেকে।
এ ব্যাপারে কাহালু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আল হাসিবুল হাসান সুরুজ জানান, এ বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলার জাতীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বর্তমান সরকার উন্নয়ন বান্ধব সরকার সে কারণে বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের এই উন্নয়ন করা হচ্ছে।
বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, ইনশাল্লাহ খুব শিগগিরই উত্তর অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে। এই রেলপথটি বগুড়া তথা উত্তরবঙ্গের মানুষের বহুদিনের দাবি। এতে উত্তর জনপদের ভোগান্তি কমে যাবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারও ঘটবে। আমিসহ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে এসেছি। এবার সেটি আলোর মুখ দেখছে।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (1) in /home/ajkersangbad/public_html/wp-includes/functions.php on line 5275

Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (1) in /home/ajkersangbad/public_html/wp-includes/functions.php on line 5275