সর্বশেষ সংবাদ
প্রচ্ছদ / বরিশাল বিভাগ / কলাপাড়া হাসপাতালে রোগীকে ইনজেকশন করাপ পরে ছটপট করতে করতে রোগীর মৃত্যুর ঘটে

কলাপাড়া হাসপাতালে রোগীকে ইনজেকশন করাপ পরে ছটপট করতে করতে রোগীর মৃত্যুর ঘটে

মাসুম বিল্লাহ জাফর, বরগুনা জেলা প্রতিনিধি: কলাপাড়ায় শ্বাস কষ্ট জনিত কারনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পায়ে হেঁটে চিকিৎসা নিতে আসায় রোগীকে ইনজেকশন করায় মৃত্যু চিকিৎসা করলেন ডাঃজেএইচ খান লেলীন। শনিবার রাত অনুমান ৮টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তির পর একটি অজ্ঞাত ইনজেকশন পুশ করার পর থেমে যায় শামসুল হক তালুকদার (৬০) এর জীবন। ঘটনার পর পর বিক্ষুদ্ধস্বজনরা কর্তব্যরত চিকিৎসক লেনিনকে অবরুদ্ধ করে আইন হাতে তুলে নেয়ার চেষ্টা কালে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের যৌথ উদ্দোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ রোগীর মৃত্যুর পর ইনজেকশনের নাম লেখা প্রেসক্রিপশনটি ডাঃলেনিন হাতেনিয়ে ছিড়ে ফেলেন। আর ডাঃ লেলীনের বক্তব্য রোগী হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসা সেবা দেয়ার পূর্বেই তার মৃত্যু হয়। তবে এ ঘটনায় স্বজনদের পক্ষ থেকে মৌখিক অভিযোগ থাকলেও থানায় লিখিত অভিযোগ না দেয়ায় ময়না তদন্ত ছাড়াই রবিবার সকালে নিহতের লাশ নিজগ্রাম,উপজেলার,চাকামইয়াএ,ইউনিয় ওয়াপাড়ায় দাফন সম্পন্ন করা হয়।
নিহতের বড় ছেলে মিলন তালুকদার (২৮) বলেন, ’শনিবার সন্ধ্যায় শ্বাস কষ্ট জনিত কারনে আমার বাবাকে মোটর সাইকেলে নিয়ে হাসপাতালে যাই। হাসপাতালের গেটে মোটর সাইকেল থেকে নেমে বাবা আমার হাত ধরে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ লেলীন কাছে যায়। গ্যাস দেয়ার জন্য কাগজে ঔষধের নাম লিখে দিয়ে তিনি বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন। এরপর দোতালায় নিয়ে যাওয়ার পর প্রথমে তাকে গ্যাস দেয়া হয়। এসময় বাবা আমার সাথে কথা বলছিলেন। কিন্তু এক নার্স বাবার শরীরে ইনজেকশন দেয়ার পর পর বাবা ছটফট করতে শুরু করায় আমি দৌড়ে ডাঃ হাত পায় দরলেও ডাঃলেলীন আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। এখন আর যেতে পারবেন না বলে প্রয়োজনে রোগী বরিশাল নিয়ে যেতে বলেন তিনি । আমি ফিরে বাবার কাছে এসে দেখি সব শেষ।
মিলন তালুকদার আরও জানান,আমার সাথে ডাঃলেলীন রোগীর কাছে না আসলেও নার্স পরিস্থিতি দেখে তাকে রোগীর কাছে নিয়ে আসে। এসময় সে আমার হাত থেকে কৌশলে তার লেখা ঔষধের কাগজটি নিয়ে ছিড়ে ফেলে। নার্সদের দিয়ে আমাদের লাশ সরিয়ে ফেলতে বলেন।
নিহতের চাচাতো ভাই উপাধ্যক্ষ নুর বাহাদুর তালুকদার বলেন, খবর পেয়ে আমি হাসপাতালেযাই।রোগীর মুত্যুতে ডাঃলেলীনের অবহেলার কথা শুনেছি। ডাঃ লেলীন ঔষধের নাম লেখা কাগজটিও ছিড়ে ফেলেছেন শুনেছি। ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর ঘটনায় সকল স্বজনরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে আইন হাতে তুলে নিতে চাইলে আমি তাদের নিবৃত্ত করি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ জে এইচ খান লেলীন বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় এক মূমূর্ষ রোগীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসে তার স্বজনরা। তাকে হাসপাতালে ভর্তির জন্য লিখে দেয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসা সেবা দেয়ার পূর্বেই তিনি মারা যান।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃচিন্ময় হাওলাদার বলেন,আমি রোগী মৃত্যুর খবর পেয়ে কোয়ার্টার থেকে হাসপাতালে এসে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করি। ডাঃলেলীনের কাছে জানতে পারি রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেয়ার পূর্বেই তিনি মারা গেছেন। কিন্তু রোগীর স্বজনরা বলছিল গ্যাস দেয়া শেষে ইনজেকশন দেয়ার পর পরই রোগী মারা যায়। এবং ডাঃলেলীন বার বার ডাকার পরও তিনি রোগীর কাছে এসেনি।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান।শনিবার রাতে রোগী মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে হাসপাতালে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি বিঘ্ন হওয়ার আশংকা দেখা দিলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনেয় আনে।নিহতের স্বজনরা ভুল চিকিৎসার কথা বললেও তারা লিখিত কোন অভিযোগ না দেয়ায় আইনগত পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয়নি।
Advertisement

Check Also

প্রধানমন্ত্রী সবসময় ভোলার জনগনের খোঁজ-খবর নেন বললেন ভোলা ২ আসনের এমপি

  মোঃ সাইফুল ইসলাম আকাশ, ভোলা থেকেঃ করোনা ভাইরাসে সংক্রমণ প্রতিরোধে জনগণের পাশে এসে নিজের …

Leave a Reply

Your email address will not be published.