ছাত্রলীগকে কোটি টাকা ঈদ সালামি, আলোচনায় জাবি উপাচার্য ও পরিবার

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ছাত্রলীগের পদ হারানো সাধারণ সম্পাদকের সাথে শাখা ছাত্রলীগ নেতাদের ফোনালাপ নিয়ে গোটা ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। নেতাদের একাংশের দাবি, ঈদ সালামির নামে ভিসি নিজেই এক কোটি টাকা ভাগ করে দেন।

গত ৯ আগস্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্যের বাসায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একটি অংশের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন উপাচার্য ও তার পরিবারের দুই সদস্য। সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী তারা ২৫ লাখ টাকা গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন।

এরপর গত ১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অপসারণ করার পরপরই একটি অডিও ফাঁস হয়। এতে জানা যায়, উপাচার্যের পরিবার এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের প্রথম সারির নেতারা অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগের সেই অংশের নেতারা বলেন, সেই বৈঠকের পর জাবি ছাত্রলীগকে ‘ঈদ সালামি’ হিসেবে টাকা দেওয়া হয়েছিলো। সেই অংশের নেতা জাবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নিয়ামুল হাসান তাজ এবং যুগ্ম সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন গণমাধ্যমের সঙ্গেও একই কথা বলেছেন।

তারা জানান, সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে তারা ২৫ লাখ টাকা করে পাবেন। বৈঠকে আরো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়- জাবি ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানাকে ৫০ লাখ টাকা এবং সাধারণ সম্পাদক এসএম আবু সুফিয়ান চঞ্চলকে ২৫ লাখ টাকা দেওয়া হবে।

এদিকে জাবি উপাচার্য ফারজানা ইসলাম এসব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন। এমনকী, তার পরিবারের কোনো সদস্য এমন বোঝাপড়ার সঙ্গে জড়িত নন বলেও দাবি করেন তিনি।

সাদ্দাম বলেন, তারা ৯ আগস্ট বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপাচার্যকে ফোন দিয়েছিলেন তার সঙ্গে কথা বলার জন্যে। ফোন দেওয়ার পর ভিসি ম্যাম বললেন, ঠিক আছে, তোমরা আসতে পারো। আমি জুয়েল ও চঞ্চলকেও ডাকছি। আমি বললাম, ওকে ম্যাম, কোনো সমস্যা নেই।

উপাচার্যের স্বামী আখতার হোসেন এবং ছেলে প্রতীক তাজদিক হোসেনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সাদ্দাম জানান, জুয়েল এবং চঞ্চল প্রায় ঘণ্টাখানেক পর এসেছিলেন।

সেই সময়ের মধ্যে উপাচার্যের স্বামী ও ছেলে বলছিলেন, তোমরা কেনো কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সঙ্গে যোগাযোগ করলে? (জাবি) ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কী করার আছে? তারা বলতে চাচ্ছিলেন যে জাবির বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের হস্তক্ষেপ করাটা ভালো হয়নি।

সাদ্দাম আরো জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেগা প্রজেক্ট নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সঙ্গে কোনো সমঝোতার বিরোধিতা করেছেন উপাচার্য ও তার পরিবার। জুয়েল ও চঞ্চলের সঙ্গে কথা বলেই তারা কাজ সারতে চেয়েছিলেন, বলে মন্তব্য করেন সাদ্দাম।

সাদ্দাম ও তাজের নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের অংশটিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ঘনিষ্ঠ বলে ধারণা করা হয়।

নানা অভিযোগের মুখে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির পদ থেকে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে এবং সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে গোলাম রাব্বানীকে অপসারণ করা হয়। সম্প্রতি জাবির ভিসি অভিযোগ করেন যে শোভন ও রাব্বানী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার প্রকল্প থেকে ৪ থেকে ৬ শতাংশ চাঁদা দাবি করেছিলেন। তারা ভিসির বাসায় গিয়েছিলেন গত ৮ আগস্ট।

প্রথমে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের কাছে অস্বীকার করার পর অবশেষে রাব্বানী কাছে স্বীকার করেন যে, তারা উপাচার্যের কাছে তাদের ‘ন্যায্য পাওনা’ দাবি করেছিলেন। তবে এর পরিমাণ কতো তিনি তা বলেননি। তিনি বলেছিলেন সেই টাকা চাওয়া হয়েছিলো ‘ঈদের খরচ’ হিসেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published.


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (1) in /home/ajkersangbad/public_html/wp-includes/functions.php on line 5275

Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (1) in /home/ajkersangbad/public_html/wp-includes/functions.php on line 5275