সর্বশেষ সংবাদ
প্রচ্ছদ / জাতীয় / স্বপ্নের পদ্মা সেতু ও বুকচাপা হাহাকার”

স্বপ্নের পদ্মা সেতু ও বুকচাপা হাহাকার”

 

(শাহীন সাজু) স্টাফ রিপোর্টারঃ-

আজ পদ্মা সেতুতে পার হতে পারলে চাচার জানাযা টা করতে পারতাম এভাবেই বললেন অনলাইন একটিভিস্ট ও ফ্যাশন ডিজাইনার প্রিন্স মাহমুদ রহিম,
প্রতিদিনের মত আজ ও ভোর হলো সূর্য উঠলো পৃথিবীতে প্রদক্ষিণ ও শুরু করলো।যান্ত্রিকতায় চারিপাশ কোলাহলপূর্ন হলো রোজ কার মত ঠিক দুপুরে আমার সূর্যদয় হলোনা।ঠিক দুপুরের ঘুমভাঙানি ভোরের ঘন্টা চারেক আগে আমার নিদ্রা যাপনের অবসান হয়।কোনকিছু বুঝে ওঠার আগেই ক্রমশ আত্মব্যাস্ততা শুরু হলো নিছক ভঙ্গিতে।আমি বের হলাম শহর ছেড়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে।সময় ঠিক সকাল ১০ টা বাজে বাজে।১০টা বেজে যখন ৭-৮ মিনিট ঠিক তখনই নিশ্চিত হলাম বড় চাচা পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন।কল্যানপুর থেকে উবারে করে গুলিস্তানের উদ্দেশ্যে যাত্রাপথেই চাচার বিয়োগের সংবাদ অবশ্য নানু মারা যাওয়ার সংবাদ শুনে মাথা ঝিম দিয়ে ছিলো আজ ঝিম দেয়নি।কারন নানু হুট করে মারা গিয়েছিলো
আর বড় চাচা দীর্ঘ দিন লিবার ক্যান্সারে আক্রান্ত। ঢাকায় যখন পিজিতে চিকিৎসা নিতে প্রথম আসে তখন থেকেই আমি প্রতিদিন হসপিটালে যাওয়া আসা করতাম,প্রথম দিনেই ডক্টর বলে দেয় তিনি আর বেশি দিন আমাদের মাঝে থাকবেন না।তারপর কিছুদিন চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে চলে আসে।তখন থেকেই মৃত্যুর জন্য দিন গোনা।কল্যানপুর থেকে গুলিস্তান আসতে ১৫ মিনিট লাগলো।ভেঙে ভেঙে গেলে তাড়াতাড়ি হবে তাই ডিরেক্ট গাড়ির টিকিট না কেটে মাওয়া অবদি টিকিট কাট লাম বেশ কিছুক্ষণ গাড়িতে ওয়েট করলাম যাত্রী পূর্ন হলো গাড়ি ছাড়লো।মাওয়া ঘাটে পৌছালাম ১২টার দিকে।স্পীডবোটে করে ১০ মিনিটে পদ্মা পার হলাম।পার হওয়ার পর কেন যেন বাড়িতে দ্রুত যেতে মন সায় দিচ্ছিলো।তাই যে গাড়িটা আগে ছাড়লো ওটায়ই উঠলাম।গাড়ি চলা শুরু করলো ঢাকাতে থেকে মাওয়া অবদি যেতে বড় চাচার তেমন কোন স্মৃতি মাথায় আসেনি কিন্তু পদ্মা পার হয়ে গাড়িতে ওঠার পর গাড়ি যত বাড়ির দিকে আগাচ্ছে ততই বড় চাচার সাথে সকল স্মৃতি মাথায় চাপা দিচ্ছিলো।ঝাপসা হয়ে আসছিলো সবকিছু।এক অন্যরকম ভালবাসতো চাচা আমাকে যা তার অন্যকোন ভাতিজা বা ভাতিজি কে বাসেনি এটা আমি নিশ্চিত,।,সে আমাকে কোনদিন একটা বকা দিয়েছে কিনা আমার মনে নাই।মনের মিল টা ছিলো অসাধারন চাচার সাথে আমার।একটা ঘটনা বার বার মাথা নাড়া দিচ্ছিলো ঘটনা টা ২০১৪ সালের।পড়াশুনা পরীক্ষা সবকিছুর চাপের কারনে প্রায় ৫-৬ মাস পর রোজার ঈদের ছুটিতে বাড়িতে যাই।সবার আগে দেখা হয় চাচার সাথে।আমাকে দেখা মাত্র হাউমাউ করে কাঁদা শুরু করে বলে “এতদিন পর আসলি”।আমি যতবারই বাড়িতে যাই চাচাকে দেখা মাত্র সালাম করতাম এবং আমাকে বুকে জড়িয়ে নিত কান্না করতো।আমার কাছে শ্রদ্ধা ভালবাসা সম্মানে পরিপূর্ণ ছিলো আমার বড় চাচা।তাকে নিয়ে লিখছি আর দীর্ঘশ্বাস ফেলছি কাকে হারিয়ে ফেললাম?
কি ছিলেন আমার লাইফে।যা ই হোক গাড়ি বাড়ির দিকে আগাচ্ছে পৌছাতে ঘন্টাখানেক বাকি তখন বাড়ি থেকে ফোন আসে তখন সময় ২টার একটু বেশি।সকালে আমাকে তাড়াতাড়ি বাড়ি যেতে বললো সবাই আর তখন বললো আস্তে ধীরে যেতে আমি কি করবো বুজতে পারলাম না।গাড়ি থেকে নামার পর দ্রুত বাড়ি পৌছানোর জন্য একটা বাইক দরকার তাই এক কাকাকে ফোন করলাম সে ও আমাকে আস্তধীরে যেতে বললো।পরবর্তীতে নিশ্চিত করলো জানাজা হয়ে গেছে এবং দাফন ও।তখন বুকের ভিতর ছটফট শুরু হলো।
আমি শেষ বারের মত চাচা কে দেখতে পারলাম না।দিনটি শুক্রবার ছিলো তাই জুম্মাবাদ জানাজা হয়েছে লিবার ক্যান্সার ছিলোতো তাই দাফনেও দেরি করেনি।
আমি ঠিক চারটায় পৌছালাম রাস্তায় প্রথম দেখা হলো ছোটকাকার সাথে সে আমার দিকে এগিয়ে আসছে আর আমি তার দিকে চোখ ভারী হয়ে চাপা কান্না……
সে আমাকে ধরে নিয়ে বাড়ির দিকে আগাচ্ছি কলিজা ছিড়ে যাচ্ছিলো__________
বাড়িতে ঢুকা মাত্র সবাই জড়ো হয়ে গেলো আমার চিৎকারে।চিৎকার করে বারবার বলতেছিলাম আমার জন্য কেন রাখা হলোনা_________
সবাই আমাকে শান্তনা দিচ্ছে কিন্তু আমি আমার মন কে এখন পর্যন্ত শান্তনা দিতে পারছিনা,চাচার কথা ভাবতেই চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে।বুকটা কেমন যেন ভারী হয়ে আছে,চাপা এক যন্ত্রণা বড়চাচা…….
আল্লাহ আপনাকে জান্নাত নসীব করুক।
পদ্মা সেতুর প্রতিটি স্প্যানে সাংবাদিক নিউজ করেন।অনেকে তা নিয়ে হাসাহাসি করতে দ্বিধা করেন না।
হয়তো ভাবেন পদ্মা সেতু এ আবার এমন কি?
পদ্মা সেতু কতটা জরুরী এটা দক্ষিণ বঙ্গের মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পায় যখন লঞ্চে করে পার হতে হয়।আজ যদি পদ্মা সেতু টা থাকতো আমি হয়তো গতকাল আমার বড় চাচার জানাজা টা করতে পারতাম।
যারা প্রতিটি স্প্যানে ব্যাঙ্গ করেন উপহাস করেন তারা বুজবেন না আমার ব্যাথা। তারা বুজবেন না দক্ষিণ বঙ্গের হাহাকার।

Advertisement

Check Also

স্বাধীনতা দিবসে আইন সহায়তা কেন্দ্র নর্থবেঙ্গল জোনাল কমিটির মশারি ও মাক্স বিতরণ

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ—২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে, আইন সহায়তা কেন্দ্র ফাউন্ডেশন “নর্থবেঙ্গল জোনাল কমিটির” পক্ষ …